মধ্য আয়ের ফাঁদে না আটকে উদ্ভাবনী শক্তি বাড়াতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এবং ব্র্যাকের চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। গতকাল ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) ১৩তম সমাবর্তনে তিনি এ মন্তব্য করেন। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘আমাদের অর্থনৈতিক ভিত্তি আর কোনো বিতর্কের বিষয় নয়। একজন অর্থনীতিবিদ ও সমাজবিজ্ঞানী হিসেবে বলতে চাই—এ পর্যন্ত যেসব পরিসংখ্যানের ওপর আমরা নির্ভর করেছি, সেগুলো ভবিষ্যতের প্রকৃত চ্যালেঞ্জকে পুরোপুরি তুলে ধরে না। আমরা যেন ‘মধ্যম আয়ের ফাঁদে’ আটকে না যাই। এজন্য প্রয়োজন এমন কর্মশক্তি, যারা কেবল নির্দেশ পালন করবে না, বরং উদ্ভাবন, সৃজনশীল সম্পৃক্ততা ও আন্তর্জাতিক মানের কর্মনৈতিকতার মাধ্যমে সমাধান করবে।’
গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে জিল্লুর রহমান বলেন, ‘যে ডিগ্রিটি অর্জন করলেন, সেটিকে কোনো পুরস্কার হিসেবে দেখবেন না। এটিকে দেখুন একটি প্রতিশ্রুতি হিসেবে—যে প্রতিশ্রুতি দরজা খুলে দিতে পারে, নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে। আজকের বিশ্ব চলে হার্ড স্কিল ও সফট স্কিলের সমন্বয়ে। নিজেকে একই সঙ্গে শিক্ষিত মানুষ ও দক্ষ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলুন। সমাধানের দিকে মন দিন, কীভাবে উদ্ভাবনী চিন্তা ও সাহস নিয়ে বাধা অতিক্রম করা যায়। ব্যর্থতায় থেমে যাবেন না, বরং বারবার নতুন করে শুরু করার শক্তি জোগাড় করুন।’
ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটিতে গতকাল এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়টির স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ৪ হাজার ২০ জন শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি দেয়া হয়। এছাড়া কৃতিত্বপূর্ণ ফল অর্জনকারী পাঁচজনকে চ্যান্সেলরস গোল্ড মেডেল, চার স্নাতককে চেয়ারম্যান গোল্ড মেডেল ও তিন স্নাতককে ভাইস চ্যান্সেলরস গোল্ড মেডেল দেয়া হয়।
সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের প্রতিনিধি হিসেবে সভাপতিত্ব ও সনদ প্রদান করেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এসএমএ ফায়েজ। সমাবর্তনে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন।
সভাপতির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এসএমএ ফায়েজ বলেন, ‘শিক্ষা ও নতুন প্রযুক্তির সমন্বয়ে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি যে অনন্য উচ্চতা স্পর্শ করেছে, তা জাতীয় অগ্রগতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মনে রাখবে, ডিগ্রির চেয়ে বড় হলো বিবেক। একজন শিক্ষিত মানুষ হিসেবে তোমাদের ভালো-মন্দের পার্থক্য করার ক্ষমতা সাধারণের চেয়ে অনেক বেশি হওয়া উচিত। সেই নৈতিক শক্তি নিয়ে তোমরা দেশ ও জাতির সেবায় আত্মনিয়োগ করবে।’
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের জানতে হবে আপনি কোন কাজে ভালো এবং কীভাবে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার পাশাপাশি সমাজের সেবা করতে পারেন।’
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমআর কবির স্নাতকদের উদ্দেশে বলেন, ‘একটি বিকাশমান মানসিকতা গড়ে তুলুন—যেখানে আপনি উপলব্ধি করবেন যে পরিবর্তনশীল বিশ্বে স্নাতকোত্তর জীবনের পরও শেখা অব্যাহত রাখতে হবে এবং আজীবন দক্ষতা উন্নয়ন অপরিহার্য। ’